বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

সময় পরিবর্তনশীল আর মৃত্যু আবশ্যক-

১০ বছর আগে ক্লাসে সবচেয়ে সুন্দরী নজর কাড়া মেয়েটা এখন দুই সন্তানের মা। কিন্তু সেই রুপ আর নেই!
* সব পরীক্ষায় নকল করে পাস করা ছেলেটি এখন বিসিএস ক্যাডার!
* ক্লাসে সবচেয়ে পড়াশুনোয় বেশি সময় ব্যয় করা ছেলেটি এখন বেকার ঘুরছে!
*অন্যের গার্ল ফ্রেন্ড ভাগিয়ে নিয়ে যাওয়া বাইকওয়ালা ছেলেটার হবু বউ এখন আরেক প্রতিষ্ঠিত টাকাওয়ালার বিয়ে করা বউ!
* ১২ বছর আগে ক্লাসে সবচেয়ে অহংকার নিয়ে চলাফেরা করা ছেলেটা এখন লোনের বোঝা নিয়ে কোন মতে বেচে আছে!
* ১৫ বছর আগে ক্লাসের লাস্টে বসা, প্রতিনিয়ত খারাপ রেজাল্ট করা ছেলে টা এখন ডাক্তারি শেষ করছে!
* ৬-৭ বছর ধরে বারবার বয়ফ্রেন্ড চেন্স করা ফর্সা সুন্দরী মেয়েটা এখন পাত্র পক্ষের কাছে বার বার রিজেক্ট হচ্ছে!
* ৫ বছর আগের সবচেয়ে সেরা জুটিটা এখন একজন আরেকজনের ব্লক লিস্টে!
* ৭-৮ বছর ধরে নিজের ইচ্ছামতো একের পর এক প্রেম করা মেয়েটি এখন নিজের অনিচ্ছায় অপছন্দের মানুষের সাথে সংসার করছে!
* ১০ বছর আগে আড্ডা জমানো ছেলেটা এখন বন্ধুহীনতায় ভুগেছে!
* ৪-৫ বছর আগে ক্লাসের সবারচেয়ে আগে তুলনামূলক ভাল জব পাওয়া ছেলেটি রোড এক্সিডেন্টে মৃত!

কখন কার কপালে কি ঘটে তা আগে থেকে জানা সম্ভব নয়। অর্থ, বিত্ত, রূপ, গুনের কারণে সাময়িক কিছু দিনের জন্য আপনি-আমি হয়তো সময়কে নিজের মতো করে চালাতে পারব কিন্তু সময় সবসময় আমার-আপনার ইচ্ছামতো চলবে এমন আশা করাটা ভুল।
সময় সময়ের মত করে শোধটা নিয়ে নেয়।

এত অহংকার কিসের আমাদের জীবনের প্রথম গোসল করছি অন্যজনের হাতে, শেষ গোসল ও হবে অন্যজনের হাতে!
©

মঙ্গলবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

পাখি ও মৌমাছি।

একদিন বিকেলবেলা একটি পাখি একটি গাছের ডালে এসে বসল। গাছের অন্য ডালে একটি মৌমাছির বাসাও ছিল। সেদিক থেকে একটি ছোট্ট মৌমাছি পাখিটির সামনে দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল।

পাখিটি মৌমাছিটিকে কাছে ডেকে বলল, “কেমন আছ মৌমাছি ভাই?”

মৌমাছিটি উত্তর দিল, “ভাল। তুমি কেমন আছ?”

পাখি বলল, “ভাল। অনেক দিন ধরেই তোমাকে একটি কথা বলব বলব ভাবছি।”

মৌমাছি জিজ্ঞেস করল, “কী কথা পাখি ভাই?”

পাখিটি বল, “মধুর জন্য তুমি কত কঠোর পরিশ্রম কর, কিন্তু লোকজন তোমাকে না জানিয়েই তা নিয়ে যায়। এতে তোমার দুঃখ হয় না?”

মৌমাছিটি উত্তরে বলল, “না।”

পাখিটি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, “কেন?”

হাসিমুখেই মৌমাছি জবাব দিল, “কারণ তারা কখনই আমার মধু তৈরির শিল্পকে আমার কাছ থেকে চুরি করতে পারবে না।”

নিজের দৃষ্টিভঙ্গী সবসময় ইতিবাচক রাখুন।

ছোট্ট মৌমাছির মত হওয়ার চেষ্টা করুন, আকারে ছোট হলেও হৃদয়ের দিক দিয়ে মহৎ।

সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

ইঁদুর বিড়ালের সমঝোতা, দোকানদারের বারোটা!!!

এক  মুদি দোকানে বাসা বেঁধেছিল দুষ্টু কিছু ইঁদুর। রাতের বেলা দোকানদার বাসায় চলে গেলে ইঁদুরদের নাচানাচি লাফালাফির উৎসব শুরু হয়ে যেত। একটা যেত তেলের বোতলে হামলা চালাতে আরেকটা লাফাতো চালের বস্তার ওপর আর অন্যরা এভাবে চিনির বস্তা আটার বস্তাসহ বিভিন্ন প্যাকেট আর বস্তা কাটার উৎসবে মেতে উঠতো। যা-ই সংগ্রহ করতো সেগুলো নিয়ে জমাতো গর্তের ভেতর তাদের থাকার ঘরে। অন্য ইঁদুরেরা বাদাম আখরোট ইত্যাদি যে যা পেত খেয়ে পেট ভর্তি করে নিতো। দোকানদার যতো ওষুধ আর বিষই সেখানে ছড়াতো কোনো কাজই হতো না। দুই একটা হয়তো মরতো কিন্তু শতটা নতুন জন্ম নিতো।

দোকানদারের বন্ধুরা যারা এ ধরনের সমস্যায় পড়েছিল তারা চমৎকার একটা বুদ্ধি দিলো। তারা বলল: ‘ওষুধ ফসুদে কোনো কাজ হবে না, এক কাজ করো, মোটা তাজা দেখে একটা বিড়াল এনে দোকানে রেখে দাও। দেখবে ইঁদুরের বংশ ধ্বংস হয়ে গেছে’। দোকানদার অনেক ঘুরে ফিরে শেষ পর্যন্ত মোটাতাজা একটা বিড়াল পেল। বিড়ালটা দিনভর এটা সেটা খেয়ে দোকানের সামনেই ঝিমাতো আর রাত হলেই দোকানের ভেতর তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে এদিক ওদিক তাকাতো। অপেক্ষায় থাকতো কখন ইঁদুর বেরিয়ে আসে। ইঁদুর বের হলেই বিড়াল হামলা চালিয়ে কাজ সেরে দিত। এভাবে বিড়ালের উপস্থিতিতে ইঁদুরেরা আর আগের মতো দোকানের বস্তা কাটার উৎসব পালন করতে পারতো না।

দোকানদার পরিস্থিতির উন্নতি দেখে খুব খুশি। এখন আর ইঁদুরের দল তার দোকানের মালামাল নষ্ট করে না বা নিয়ে যায় না। বিড়ালও দোকানদারের ওপর খুব খুশি কেননা সে তাকে দিনভর খাবার দেয়, বিশ্রামের সুযোগ দেয়। বিড়ালও সতর্কতার সাথে পাহারা দিয়ে দোকানদারকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করলো। কিন্তু কোনো কোনো ইঁদুর বিড়ালের তন্দ্রার সুযোগ নিতে শুরু করলো। বস্তা কেটে নিজের জন্যে এবং অন্যদের জন্যেও খাবার নিয়ে যেতে লাগলো। দোকানদার এই দুই একটা চোর ইঁদুরকেও কীভাবে পাকড়াও করা যায়  তা ভাবল। ভেবেচিন্তে সে দিনের বেলা বেড়ালটাকে কম খেতে দিতে শুরু করলো, যাতে রাতের বেলা বিড়ালের ক্ষিদে লাগে, আর ক্ষিদের কারণে রাতে বেশি বেশি ইঁদুর শিকার করে। দুই এক সপ্তাহ এই বুদ্ধিটা বেশ কাজে দিলো।

মোটাতাজা বিড়ালটি পেট পুরে খাবার খেতে না পেয়ে ধীরে ধীরে শীর্ণ হয়ে যেতে লাগলো। সেজন্যে রাতে অনেক বেশী শিকারে মন লাগালো। সে কারণে ইঁদুরগুলো আর দোকানের জিনিসপত্রের ওপর খুব একটা হামলা করতে সাহস পেলো না। দোকানদারও বেশ খুশি। কিন্তু বিড়াল খাবার না পাবার কারণে আগের মতো সন্তুষ্ট থাকতে পারলো না। দোকানদারও তার দিকে আর নজর দিচ্ছে না। সেও এখন ভাবতে শুরু করলো দোকানের খাদ্য সামগ্রীর ওপর হামলা করবে। বিড়ালের মনোভাব আর দোকানদারের ব্যাপারটা ইঁদুরগুলো লক্ষ্য করছিলো। তারা সবাই বৈঠকে বসলো। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইঁদুরগুলো বস্তা, প্যাকেট, এটাসেটার ফাঁকফোঁকরে একসাথে লুকিয়ে সাহসের সাথে মাথাটা বের করলো। সাহসী ইঁদুর যেটা সে বিড়ালের উদ্দেশ্যে বলল:‘শোনো! আমার ওপর হামলা করার আগে এক মিনিটের জন্য আমার কথাটা শোনো। তুমি নিশ্চিত থাকো যে পালানোর পথ ঠিক করা আছে, তুমি আমার নাগাল পাবে না। তবে আমার কথাটা শুনলে তোমার উপকারও হতে পারে’।

বেড়াল চিন্তাভাবনা করে বলল: ঠিক আছে বলো!

ইঁদুর বলল: তুমি আসার পর থেকে আমাদের অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে, না খেতে পেয়ে মরার মতো অবস্থা।

বিড়াল বলল: তাই তো হবার কথা...! তোমরা ভিন্ন কিছু আশা করছিলে...!

ইঁদুর বলল: না, তা না; তবে একটু ভেবে দেখুন.. দোকানদার হলো মানুষ আর আপনি এবং আমরা তো...

বিড়াল ভেবেছিল ইঁদুর তাকে ছোটো করার চেষ্টা করছে, তাই দ্রুত মাথা তুলতেই ইঁদুরটাও ঢুকে গেল বস্তার ফাঁকে। ঢুকেই বলল: তুমি আমার কথাটা শোনো..গত ২/৩ সপ্তাহ ধরে দোকানদার তোমাকে এতো কম খেতে দিচ্ছে যে কয়দিন পর হয়তো তোমার আর শিকার করার মতো শক্তিও থাকবে না..।

বিড়াল ভাবল ইঁদুর তো ঠিকই বলছে। সে একটু সংযত হলো। বলল: কী বলতে চাও তুমি...

ইঁদুর এবার একটু সামনে এসে বলল: ক্ষুধায় তোমারও তো নিশ্চয়ই ইচ্ছে করে দোকানের মজার মজার খাবারগুলোর বস্তায় বা প্যাকেটে আঁচড় বসাতে.. করছে না? নৈলে আমরা যদি অন্য কোনো গর্তে গিয়ে আশ্রয় নি, তুমি তো মরে যাবে না খেয়ে। তাই আমাদের প্রস্তাব হলো তুমি রাতের বেলা ঘণ্টাখানেক একটু রেস্ট নাও, আমরা এই ফাঁকে আমাদের কাজটা সেরে নেবো... বিনিময়ে তোমার জন্যেও পর্যাপ্ত খাবার আমরা দোকানের এক কোণে জমিয়ে রাখবো.. তুমি তো আর তোমার ঐ ভোঁতা নখ দিয়ে বস্তা কাটতে পারবে না, তাইনা’?

বিড়াল মনে মনে সাতপাঁচ ভেবে ইঁদুরকে পরীক্ষা করার জন্যে বলল: আমি আজ ভীষণ টায়ার্ড, ঘুমাবো.. তোদের যা খুশি কর!

ইঁদুরেরা বুঝল বিড়াল তাদের প্রস্তাবে রাজি হয়ে গেছে। গর্তে ফিরে গিয়ে সবাইকে নিয়ে রাতে হামলা চালালো যার যার পছন্দের খাবারের ওপর। ইচ্ছেমতো খেলো এবং নিয়েও গেল। আর কিছু খাবার রেখে গেল বিড়ালের জন্যে। ইঁদুরেরা চলে যাবার পর বিড়াল খাবারগুলো পেট ভরে খেয়ে দু'হাতের ওপর মাথাটা এলিয়ে দিয়ে ঘুমালো। পরের কয়েক রাতেও ইঁদুর-বিড়াল পারস্পরিক সহযোগিতামূলক চুক্তি ও কর্মসূচি ঠিকঠাকভাবেই বাস্তবায়িত হলো। এখন ইঁদুরেরাও খুশি বিড়ালও খুশি। কিন্তু বেচারা দোকানদার বুঝতেই পারে নি এভাবে ‘বেড়ায় ক্ষেত খেয়ে’ যাচ্ছে।

‘ইঁদুর বিড়ালের সমঝোতা, দোকানদারের বারোটা’।

(বুুঝলে বুঝেন, না বুঝলে মুড়ি খান)

সোমবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষা!

প্রমথ চৌধুরী বলে ছিলেন,
"বাংলা ভাষা আহত হয়েছে সিলেটে, নিহত হয়েছে চট্টগ্রামে"....
চট্টগ্রামের মানুষ হিসেবে ব্যপারটা
আসলেই চিন্তা করার মত।
সত্য বলতে কি বাংলা ভাষার সাথে চট্টগ্রামের ভাষার ৭০ ভাগই নূন্যতম মিল নেই!!

যেমন টা ধরেন:

মুরগী কে চট্টগ্রামের ভাষায় বলে "কুরো"...
মোরগ কে বলে " লাতা কুরো"..
শালিক পাকি কে বলে "দেচ্ছো"..
তেলাপোকা কে বলে "তেইল্লেচুরা"
কাক কে " হাউওয়ো"
টয়লেট কে "টাট্টি"
খারাপ মানুষ কে " জারগো"
মাউলানা কে " মুলিছাফ"
পেয়ারা কে "গুয়াছি"
শিমের বিচি কে "হাইস্যে"
সমুদ্র কে "দইজ্জে"
কলসি কে "ঠিল্লে"
হঠাৎ কে "আতিক্কে"
পিচ্ছিল কে "বিরবিজ্জে"
ইত্যাদি ইত্যাদি...।

আর চট্টগ্রামের ভাষায় এমন কিছু এপিক
এক্সপ্রেশন আছে যা শুধু বাংলা কেন! পৃথিবীর
কোন ভাষায় অনুবাদ করা যাবেনা।

যেমন ধরুন :
অবাইজ্জেহুদা!!
আত্তামারেবাপ!!!
মাইল্লেপিরে!!!
অবাজিরে!!
উম্মারেম্মা।
এরকম আরো শত শত এক্সপ্রেশন।

তাছাড়া চটগ্রামের #প্রবাদ গুলোও
পুরোপুরি ভিন্ন। যেমন:-

★ফুয়াদেল্লাই ছাড়িত ন পারির,
কেঁডারলাই গিলিত ন পারির।
বাংলা অনুবাদ : স্বাদের জন্য
ছাড়তে পারছি না, কাঁটার জন্য
গিলতে পারছি না।

"পুঁদত নাই তেনা মিডে দি ভাত হানা"
অনুবাদ : গায়ে নেই জামা মিঠায় দিয়ে ভাত খাওয়া।

যা কোনো ভাষায় অনুবাদ করা যায় না
"চেরেত গরি পরি গেইয়ে"

চিটাইংগে ছোটবেলার খেলা

"ইচকিম ইচকিম হাইমর দাঁরা
হাইম গেইয়ে রাজার বারা
রাজার বউয়ের বাইট্টে চুল
টাইনতে টাইনতে লাম্বা চুল
লাম্বা চুলেত্তলে
দুওয়ো বাত্তি জ্বলে
সোনার আত হাডি দিলাম
কেঁচেঁত"

আরো আছে
বাংলাদেশের জাতীয় খেলার চিটাইংগে ভার্ষন

১/"হা ডু ডু লক্কন
তুরে মাইত্তে হতক্কন"।

২/"তুব্বোইন শরত
টিব্বাত্তি বরত"।

★★★মানুষ এই ভাষা কে কঠিন,কুৎসিত, যে
যাই বলুক না কেন🙊
এটাই আমাদের মায়ের ভাষা। এ ভাষা শিখাতে সবাই পাড়ে না। যুগের পর যুগ মানুষ "এ ভাষা" চট্টগ্রামে থেকেও আয়ত্ত করতে পারেনা।
এ ভাষা জন্ম থেকে আয়ত্ত করতে হয়।।

#বেঁচে_থাকুক_চাটগাঁইয়া_ভাষা_অনন্ত_কাল।

"দরহার অইলে এই ভাষারে বাচাইবাল্লাই আঁরা আবার ভাষা আন্দোলন গইজ্জুম"।

" চিটাইংগে মরতপুয়া/মাইয়েপুয়া অক্কল আঁরাতো আঁরাই
আঁরাই সেরা"। 🔥

সংগৃহীত ❤

সুখ নির্ভর করে আত্মতৃপ্তির উপর।

ঘটনা ১ :-
তিন তারা হোটেলে ৪০,০০০/- টাকা খরচ করে পার্টি দিয়েও লজ্জ্বায় বন্ধুদের সামনে যেতে পারছে না ধনী বাবার একমাত্র ছেলেটা। আর মাত্র ২০,০০০/- টাকা থাকলেই সে পাঁচতারা হোটেলে যেতে পারতো এবং পার্টিটা আরও জম্পেস হতো।আজ তার মতো অসুখী এই দুনিয়ায় কেউ নাই।

ঘটনা ২ :-
অনেকদিন পর রিকশাচালক মজিদ ভাই আজ ১০০/- টাকায় মাছ কিনেছেন। আজ তিনি মজা করে খেলেন পরিবারকে নিয়ে।আর তৃপ্তির ঢেকুর তুলে বললেন, "আহ.... আল্লাহ খাওয়াইছে ।"

ঘটনা ৩ :-
গ্রাম থেকে আসা গরির ঘরের ছেলেটা ব্যাচেলর থাকে শহরে। রাতে মনে মনে পরিকল্পনা করে ২০ টাকা দিয়ে একপ্লেট ডাল-ভাত খাবে সে। কিন্তু.... পকেটে হাত দিয়ে দেখে ১০ টাকা আছে। ১০ টাকা দিয়ে অল্প চিড়া আর চিনি নিল সে। তা তৃপ্তি নিয়ে খেয়েই ঘুমাতে গেল।মনে মনে ভাবল ভাগ্যিস ১০ টাকার নোটটা ছিল !

ঘটনা ৪ :-
রাতে রেললাইনের পাশে যে ছেলেটা ঘুমায় সে মনে মনে বলল, "তার কাছে থাকা ০২ টাকা দিয়ে আজ রাতে সে একপিস কেক কিনে খেয়ে ঘুমাবে।"কিন্তু দোকানে গিয়ে দেখে ০১টাকার একটা কয়েন কোথায় যেন পড়ে গেছে। মন খারাপ না করে সে বাকী ০১ টাকা দিয়ে একটা বিস্কুট কিনল । সেটা খেয়ে পেট ভরে পানি পান করল। তারপর হাসি মুখে বলল... "যাউকগা....পেটটা ভরছে।"

কিছুকথা জেনে রাখা ভালো ....
১ টাকা দিয়েও কিন্তু সুখ কেনা যায়। তবে সুখটা টাকার পরিমানের উপর নির্ভর করে না, নির্ভর করে নিজের আত্মতৃপ্তির উপর।

"টাকা বাড়লে শুধু অভাবটাই বাড়ে, সুখ বাড়েনা রে পাগলা!  সুখ বাড়েনা!!
কপি।

রবিবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২০

ওজন কমানোর বিজ্ঞাপন! (রম্য)

খবরের কাগজের বিজ্ঞাপন: এক সপ্তাহে
পাঁচ কেজি ওজন কমান।
রতনের ওজন ১০৫ কেজি।

রতন ফোনে যোগাযোগ করল। কোকিল কন্ঠের
উত্তর এল:
ভোর পাঁচটায় স্যুট পরে রেডি থাকবেন।

ভোরে কলিং বেল বাজতেই রতন দরজা খুলে দেখল
এক সুন্দরী স্যুট পরে হাজির।

মেয়েটি বলল: আমাকে ধরতে পারলে একটা কিস ফ্রী – বলে
দৌড়তে লাগল। আর রতনও চেষ্টা করতে লাগল।

যাই হউক, এক সপ্তাহ বাদে রতন ১০০ কেজির হয়ে গেল।

এবার রতন আবার যোগাযোগ করল ১০ কেজি কমাবার জন্য।

এবার আরও সুন্দরী এক কুড়ি বছরের মেয়ে।
একই রকমভাবে এক সপ্তাহ বাদে রতনের ওজন
হল ৯০ কেজি।

এবার রতন ভাবল আর একটু ওজন কম হলেই মেয়েটিকে
ধরে ফেলতে পারবে।তাই এবার রতন ২০ কেজি কমাবার
জন্য যোগাযোগ করল।

পরদিন ভোরে দরজা খুলে রতনের প্রায় দম বন্ধ হয়ে এল।
সামনে হাজির পুরীর সমুদ্র তটের নুলিয়ার মত গায়ের
রংয়ের এক কিম্ভুৎকিমাকার ছেলে।

সে বলল: আপনি আগে দৌড়বেন আর আমি পেছনে। মনে
রাখবেন ধরতে পারলে আমি আপনাকে কিস করব!

এবার রতনের অলিম্পিক দৌড় কে দেখে ?
😂😂😂😂
Collected

শুক্রবার, ৩১ জানুয়ারি, ২০২০

বাংলা বানান সমস্যা ও স্বরূপ।

বাংলা নিয়ে মাতামাতি আর চেতনার বহিঃপ্রকাশ কেবল এই ভাষার মাস এলেই দেখতে পাওয়া যায়। অতএব সচেতনতা গেলানোরও মোক্ষম সময় এই ফেব্রুয়ারি।

বাংলা নিয়ে আগেও অনেক চেঁচিয়েছি, এবার আর সেসব ভূমিকা টানব না। সরাসরি সমস্যা নিয়ে আলাপ করব। একজন শিক্ষিত লোক যদি বানান লিখতে ভুল করে তবে সেটা কি লজ্জার নয়?

লজ্জার এই কারণে যে, শিক্ষার অপর নাম সচেতনতা, সার্টিফিকেট নয়। আপনি কী লিখছেন সে সম্পর্কে সচেতন নন। এই আপনি শিক্ষিত? আপনি রসায়ন পড়েছেন, ইংরেজিতে পড়েছেন তাই বলে এটা হতেই পারে না যে আপনি আপনার মাতৃভাষায় ভুল করবেন।

যুক্তির অত অবকাশও নেই, আপনার লজ্জা হওয়া উচিত, এবং লজ্জার কারণে হলেও আপনার এবার বানানের প্রতি অন্তত যত্নবান হওয়া উচিত।

আমাদের বানানে ভুল হওয়ার কারণগুলো কী?

প্রথম কারণ আমাদের উচ্চারণ। আমরা মনে মনে যা উচ্চারণ করি সেটাই তো লিখি। এখন আপনি যদি "রিশকা" উচ্চারণে অভ্যস্ত হন, আপনি বানান জানা সত্ত্বেও লেখার সময় "রিশকা"ই লিখবেন।
আঞ্চলিক উচ্চারণে অনেককেই এই সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। চট্টগ্রামের অনেকে মনের অজান্তেই কোথায়'কে "কুতাই" লিখে ফেলেন, "তারে" বা তাকে লেখার জায়গায় লিখে বসেন থার বা থাকে! এটা কেবলই উচ্চারণ প্রবণতার দোষ।

সংশোধনটা আপনাদের হাতে।

আমাদের বানান ভুল হবার দ্বিতীয় কারণ হল, আমরা পড়ার সময় ঠিকভাবে অক্ষর বা শব্দগুলোর দিকে তাকিয়ে দেখি না। লেখার সময় আমরা যেমন মনে মনে লেখ্যকে আউড়াই, তেমনই শব্দটাকে কল্পনাও করি। আমরা যাই বলি বা লিখি তার একটা ছবি আমাদের মস্তিষ্কে সংরক্ষিত থাকে। বলার বা লেখার সময় সেখান থেকে মস্তিষ্ক review করে। আপনি যখন অবস্তুবাচক কোন শব্দ লিখতে চাইবেন, ধরুন, লিখতে চান আমার, তখন খেয়াল করে দেখবেন আপনার মনে ভেসে উঠবে আমার শব্দটির লিখিত রূপ। আপনি নিরীহ লিখতে গিয়ে যদি নীরিহ লিখে বসেন, আপনাআপনিই আপনার মনটা খচ্ করে উঠবে। কারণ এরকম শব্দ আপনার মস্তিষ্কে নেই বলেই আপনার কাছে শব্দটি বেমানান লাগছে।

তাহলে আপনাকে যেটা করতে হবে, যখন কিছু পড়বেন, শব্দগুলোর ছবিও মনে গেঁথে নেবার চেষ্টা করবেন। কাজটা মোটেও কঠিন বা কষ্টের কিছু নয়।

আমি জানি আপনারা প্রত্যেকেই শিক্ষিত। এবং শিক্ষিত মানুষের ঘরে একটি বইও থাকবে না এটা অসম্ভব। আর আমি যে ঘরেই বই দেখি, বিশেষ করে বইয়ের সংগ্রহ দেখি, সে ঘরেই আমার চোখ প্রথম খুঁজতে থাকে একটি বাংলা অভিধান। যার ঘরে পাই না, সেই ঘরের পাঠক কর্তাটির প্রতি আমার আর শ্রদ্ধা থাকে না। কেননা তখন আমি নিশ্চিত জানি যে এই লোকটা বানানে প্রতিনিয়ত অজস্র ভুল করে।

আবারও বলি, আপনার ঘরে টলস্টয় বা বোদলেয়ার থাক বা না থাক, একটি অভিধান থাকা আপনার রুচি এবং সচেতনতা প্রকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি।

অনেকেই গা বাঁচাতে বলেন, বাংলা খুব কঠিন ভাষা। তাঁদের জ্ঞাতার্থে বলি, ইংরেজি ভাষার article এবং preposition কতটা কঠিন, ভেবেছেন? জার্মান ভাষার প্রত্যেকটি শব্দের জন্য তার article এবং gender জানা জরুরি। ফ্রেঞ্চ ভাষার কঠিনতম অধ্যায় হচ্ছে pronoun; আর এ দুটি ভাষাতে উচ্চারণের ব্যাপক ঝামেলা তো আছেই। আপনি লিখবেন একটা, সেটাকে পড়া হবে অন্য একটা! লেখা এবং উচ্চারণে আকাশ পাতাল পার্থক্য! সে অর্থে আমাদের বাংলা লক্ষগুণে সহজ, কেবল আপনি এই ভাষাটির প্রতি যত্নবান ছিলেন না কোন দিন।
আর হ্যাঁ, যে ব্যক্তি তার মাতৃভাষায় দক্ষ নয়, তার পক্ষে অন্য ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা অসম্ভব।

সমস্যা আপনার, নিজের ভুলকে সংশোধন করার দায়িত্বও আপনার। নইলে আপনারই ব্যক্তিত্বে ত্রুটি থেকে যাবে।

বানানের ভুল সম্পর্কে আরেকটু বলি, আপনারা অনেকেই "ই" এবং "য়" এর পার্থক্যটা বোঝেন না। কারণটা কী?

যায় এবং যাই, খায় এবং খাই ইত্যাদির পার্থক্য কি আপনারা একদমই বোঝেন না??

জিজ্ঞেস করা হল, তুমি কোথায়?
উত্তর এল, বাসাই।

"যাই" বললে যে আমার যাওয়া বোঝায়, "খাই" বললে যে আমার খাওয়া বুঝায় এবং একইভাবে "যায়" "খায়" বলতে যে অন্য কারো যাওয়া খাওয়া বুঝায় এটা কি আপনারা ছেলেবেলা থেকেই দেখে আসছেন না?
(উদা: আমি যাই। সে যায়।)

"য়" এর উচ্চারণ সংক্ষিপ্ত "এ" ধ্বনির মতো। বাসায় লিখলে অনেকটা বাসাএর মতো শোনায়, সেখানে "সায়" উচ্চারণের বদলে "সাই" উচ্চারণটা কীভাবে আপনার মস্তিষ্ক সমর্থন করে আমি ভেবে পাই না!

চট্টগ্রাম অঞ্চলে শিশুশিক্ষার পর্যায় হতেই গলদ ঢুকিয়ে দেওয়া হয় শিশুর মস্তিষ্কে। সেখানে "ও" কে উচ্চারণ করা হয় "উ", "ঔ" কে উচ্চারণ করা হয় "আউ"। "স্বরে অ" কে পড়া হয় "স্বর-উ"!

স্বরপাঠে ও এবং ল লিখলে উচ্চারণ কী হয়, প্রশ্ন করলে উত্তর আসে উল!
ভুল তো ওখান থেকেই গিলিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে সমস্ত শিক্ষকের উচ্চারণ শুদ্ধতার ব্যাপারটি নিশ্চিত করা খুবই জরুরি।

আলোচনার প্রসঙ্গ এবার একটু অন্য দিকে নেব।
বাংলা বানানে বৈচিত্র্য বিস্তর। এই বৈচিত্র্য শুরু হয়েছে সেই প্রাচীন কাল হতেই। একেক কবি বা লিপিকার শব্দের বানান তখন থেকেই একেক রকম লিখে আসছেন। সেই যে প্রভেদ, তা আজ পর্যন্ত সমাধান করা যায়নি।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, বিশ্বভারতী এবং অধুনা আমাদের বাংলা একাডেমি বানান প্রমিতকরণের ক্ষেত্রে যথেষ্ট ইতিবাচক অবদান রেখেছে। আমরা সম্প্রতি বানানের একাধিক রূপকে বর্জন করে সহজ এবং সমর্থনযোগ্য রূপগুলোকে বিধেয় করেছেন। এটি অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য।
তবে এটাকে আমি এক অর্থে "ছাড় দেওয়া" বলে অভিযুক্ত করি। মুখে তুলে খাইয়ে দেয়ার মতো ভাষাকে যথাসম্ভব সহজ করে আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হচ্ছে কারণ আমরা আমাদের ভাষার প্রতি এতই অনাগ্রহী! ছাড় না দিয়ে বাধ্যতামূলক করে দেওয়া হলে যত কঠিনই হোক, আমরা আমাদের ভাষা যথাযথভাবে শিখতে বাধ্য হতাম। এই ছাড়টা দেওয়া একেবারেই উচিত হয়নি।

বাংলা একাডেমি ই কার এবং ঈ কারের মধ্যকার একটি প্রভেদ দেখিয়েছে, ঈ কার কেবলই সংস্কৃতের জন্য। তদ্ভব, দেশি এবং বিদেশি শব্দের বেলায় ঈ হবে না।

অনেক অংশের মতো আমার এই অংশেও আপত্তি আছে। দেশি শব্দে ঈ নেই সত্যি, কিন্তু বিদেশি শব্দে অনেক ক্ষেত্রেই ঈ অপরিহার্য, যেমন: আ'মীন। আমিন বলা হলে অর্থ পাল্টে যাচ্ছে। ঈদ কে ইদ লেখা হলে তাতে আর আনন্দ থাকে না। Sea কে শুধু সি লিখলে কি মানাবে? Mean কে মীন না লিখে মিন লেখা হলে মানায় কি?

বাংলা একাডেমিকে এটা আবারও ভাবতে হবে।
(নেট থেকে)

একুশের আক্ষেপানুরাগ

বেশ কয়েক বছর থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারির অঙ্গীকার ছিল অফিস আদালতে শতভাগ বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা। বিদেশী ভাষার ব্যবহার কমানো, ব্যানার, ফেস...